সৌরজগতে ভিনগ্রহের অতিথি! হাবলের চোখে ধরা পড়ল রহস্যময় ধূমকেতু 3I/ATLAS

ফন্ট সাইজ:
Shares

আমাদের সৌরজগতের মধ্য দিয়ে ছুটে চলেছে এক ভিনগ্রহের রহস্যময় পর্যটক। হাবল স্পেস টেলিস্কোপ সম্প্রতি যে দৃশ্য ধারণ করেছে, তা যেন মহাকাশ গবেষণার নতুন অধ্যায় সূচনা করল।

3I/ATLAS নামের এই ধূমকেতুটি এসেছে আমাদের সৌরজগতের বাইরে থেকে একেবারে অন্য কোনো নক্ষত্রপুঞ্জ থেকে।
হাবলের ওয়াইড ফিল্ড ক্যামেরা 3 – ধূমকেতুর চারপাশে একটি অশ্রুবিন্দুর মতো ধূলিকণার মেঘ দেখতে পেয়েছে, যা নির্গত হচ্ছে বরফের নিউক্লিয়াস থেকে । এই নিউক্লিয়াস বা মূলকেন্দ্র হল ধূমকেতুর সবচেয়ে কঠিন অংশ, যা মূলত বরফ, ধুলো এবং পাথরের সংমিশ্রণে গঠিত।

যখন ধূমকেতুটি সূর্যের কাছাকাছি আসে, সূর্যের তাপে এই উপাদানগুলো গলতে শুরু করে এবং গ্যাস ও ধূলিকণার বিস্ফোরণ ঘটে ফলে তৈরি হয় ধূমকেতুর দীর্ঘ, উজ্জ্বল লেজ, যা মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়ে।”

3I/ATLAS এর সবচেয়ে চমকপ্রদ বৈশিষ্ট্য হলো এর গতি প্রতি ঘণ্টায় (২০৯,০০০ কিমি)! গতির দিক থেকে এটি আন্তঃনাক্ষত্রিক বস্তুদের তালিকায় শীর্ষ স্থান দখল করেছে ।

এটা অনেকটা গুলির মত মুহূর্তের জন্য দেখা দেয়। এত অল্প সময়ে এটা কোথা থেকে এসেছে, তা বলা অসম্ভব।
3I/ATLAS-এর বরফময় কেন্দ্র বা নিউক্লিয়াস হয়তো মাত্র ৩০০ মিটার আবার হয়তো ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু এর সত্যিকারের ঘটনা এখানেই নয় বরং এটি এসেছে আমাদের সৌরজগতের বাইর থেকে, যা কোনও সোজা পথ নয়।

শুধু হাবল নয় জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ, TESS, নেইল গেহরেলস সুইফট অবজারভেটরি, এমনকি হাওয়াইয়ের W.M. কেক অবজারভেটরি ও একে নজরে রেখেছে।
আরও গবেষণায় জানা যাবে এর রাসায়নিক গঠন কে জানে, হয়তো লুকিয়ে আছে অন্য কোনো গ্রহের গল্প!

বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটি মহাকাশে শ’কোটি বছর ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। নক্ষত্র ও গ্যালাক্সির মাধ্যাকর্ষণ বলের কারণে ধীরে ধীরে এটি এত গতি অর্জন করেছে যেন মহাকাশ নিজেই এক বিশাল ঝাঁকুনি দিয়ে ছুড়ে মেরেছে ।

এই আবিষ্কারের ঠিক ৫ দিন আগেই নিজের পিএইচডি শেষ করেছিলেন ম্যাথিউ হকিন্স।
তিনি এবং তাঁর টিম তৈরি করেছেন একটি বিশেষ মডেল Ōtautahi Oxford Model যা ধূমকেতুর গতি দেখেই তার বয়স ও গঠন বোঝার চেষ্টা করে।
তাঁদের গবেষণা বলছে, 3 I/ATLAS -এর বয়স ৭.৬ বিলিয়ন বছর আমাদের সূর্যের চেয়েও প্রাচীন। হকিন্স বলেন ” হয়তো এই ধরনের ধূমকেতু নিয়মিতই পার হয়ে যায় আমাদের সৌরজগতের পথ বেয়ে। কিন্তু আকারে তারা এতটাই ক্ষুদ্র, আর দূরত্বে এতটাই অপার, আমরা চাইলেও তাদের দেখতে পারি না। তারা আসে, ছুটে যায়, নিঃশব্দে, নিঃচিহ্নে।

তবে নতুন আশার নাম ভেরা সি. রুবিন অবজারভেটরি। বিশাল ৮.৪ মিটার আয়নার এই টেলিস্কোপ প্রতি তিন দিনে একবার পুরো আকাশ স্ক্যান করে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন আগামী ১০ বছরে এ ধরনের টেলিস্কোপ থেকে ৫ থেকে ৫০টি আন্তঃনাক্ষত্রিক বস্তু শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

3I/ATLAS শুধু একটি ধূমকেতু নয় এটি এক মহাজাগতিক বার্তাবাহক। এটি আমাদের জানাচ্ছে, আমরা এখন এমন এক যুগে প্রবেশ করছি, যেখানে মহাকাশ আর অচেনা নয়, বরং একটার পর একটা রহস্যময় আগন্তুক সামনে এসে আমাদের নতুন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছে।

এ যেন দূর কোনো ছায়াপথ থেকে ছুটে আসা এক নিঃশব্দ বার্তাবাহক, আলোয় মোড়া, অতীতের এক বিস্ময় নিয়ে।

এপস্টাইনের সাথে সম্পর্কের জন্য গভীর ভাবে অনুতপ্ত ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসন

সম্পর্কিত বিষয়:

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top