ভেনেজুয়েলার পর গ্রিনল্যান্ড ও কলম্বিয়া নিয়ে হুঁশিয়ারি

ফন্ট সাইজ:
Shares

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের একদিন পর যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিম গোলার্ধে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

রোববার তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ডেনমার্কের অধীনস্থ গ্রিনল্যান্ড দখলের আহ্বান পুনরায় জানান এবং বৈশ্বিক কোকেন বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন।

একই সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, কিউবার কমিউনিস্ট সরকার বর্তমানে “গুরুতর সংকটে” রয়েছে।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ট্রাম্প ও রুবিওর বক্তব্যে স্পষ্ট হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম গোলার্ধে তার প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত করতে চাইছে।

ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন,
“গ্রিনল্যান্ড এখন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সেখানে রাশিয়া ও চীনের জাহাজ চলাচল করছে। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার, আর ডেনমার্ক একা এটি সামাল দিতে পারবে না।”

রোববার দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে ভেনেজুয়েলার সামরিক অভিযানের প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন,
“ওদেরই এটা বুঝে নিতে হবে। আমি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না।”

গত মাসে প্রকাশিত ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে ‘পশ্চিম গোলার্ধে আমেরিকান প্রাধান্য’ পুনরুদ্ধারকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে উনিশ শতকের মনরো মতবাদ এবং থিওডোর রুজভেল্টের নীতির কথাও তুলে ধরা হয়, যা অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক হস্তক্ষেপের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

ট্রাম্প রসিকতার সুরে বলেন, কেউ কেউ এখন এই নীতিকে “ডন-রো ডকট্রিন” বলেও ডাকছে।

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের মন্তব্য ডেনমার্কে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এক বিবৃতিতে বলেন, “গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের দখলে নেওয়ার কোনো অধিকার ট্রাম্পের নেই।”

তিনি আরও বলেন, ন্যাটোর সদস্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই বিদ্যমান চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডে নিরাপত্তা সহযোগিতা পেয়ে আসছে।

“আমি যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করবো ঘনিষ্ঠ মিত্রদের হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে,” বলেন ফ্রেডেরিকসেন।

রোববার ডেনমার্ক ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি বিবৃতিতে স্বাক্ষর করে, যেখানে ভেনেজুয়েলার জনগণের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার সম্মান করার আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে কিউবা নিয়েও কঠোর ভাষায় কথা বলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এনবিসির মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, ভেনেজুয়েলায় মাদুরোকে কিউবান নিরাপত্তা বাহিনী পাহারা দিচ্ছিল এবং তার সরকারের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা ব্যবস্থাও কিউবার নিয়ন্ত্রণে ছিল।

কিউবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, সাম্প্রতিক মার্কিন অভিযানে দেশটির ৩২ জন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোর বিরুদ্ধে কোকেন উৎপাদন ও পাচারের অভিযোগ তুলে ট্রাম্প বলেন,
“কলম্বিয়া এমন একজন মানুষের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, যিনি কোকেন তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে পছন্দ করেন।”

কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন,
“শুনতে আমার কাছে খারাপ লাগছে না।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব বক্তব্য ও পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ট্রাম্প প্রশাসন ভবিষ্যতে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে আরও কঠোর ও আগ্রাসী নীতি অনুসরণ করতে পারে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top