১১ রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কার্কির আদেশ আটকাল নেপালের আদালত

নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি
ফন্ট সাইজ:
Shares

প্রায় ডজনখানেক রাষ্ট্রদূতকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে তাদের দেশে ফিরে আসতে নেপালের অন্তর্বর্তী সরকার যে আদেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট তা আটকে দিয়েছে।

দেশটির শীর্ষ আদালতের এ সিদ্ধান্তকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের জন্য বড়সড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে, বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে সেপ্টেম্বরে নেপালে জেনজিদের যে আন্দোলন গড়ে ওঠে তা পরবর্তীতে দুর্নীতিবিরোধী ব্যাপক সহিংস বিক্ষোভে রূপান্তরিত হয়।

তার জেরে কেপি শর্মা ওলির নির্বাচিত সরকারের পতন ঘটে এবং পরে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়।

কার্কি দেশটির প্রথম নারী সরকারপ্রধান। সম্প্রতি তার সরকার চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ১১ রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফেরত আসতে বলে। এ রাষ্ট্রদূতরা ওলির হাতে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

রাষ্ট্রদূতদের দায়িত্ব থেকে সরানোর যুক্তি হিসেবে সরকার বলেছিল, তারা ওই দূতদের কর্মদক্ষতায় সন্তুষ্ট নয়।

“কিন্তু সরকার আদালতে রাষ্ট্রদূতদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ন্যায্যতা প্রমাণ করতে পারেনি,” সোমবার রয়টার্সকে এমনটাই বলেছেন কার্কির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানানো স্বতন্ত্র আইনজীবী অনন্ত রাজ লুইনটেল।

আদালতের রোববারের আদেশের ফলে সব রাষ্ট্রদূতই দায়িত্বে বহাল থাকলেন এবং তারা স্বাভাবিকভাবেই তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন, বলেছেন তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়কমন্ত্রী জগদীশ খারেল বলেছেন, তাদের সরকার ‘সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে শ্রদ্ধা করে’।

৭৩ বছর বয়সী কার্কি দায়িত্ব নিয়েছেন আগামী বছরের ৫ মার্চের মধ্যে নেপালের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নির্বাচন আয়োজনে। এ জন্য তিনি দুর্নীতিবিরোধী, সংস্কারে ইচ্ছুক কয়েকজনকে নিয়ে ছোট একটি মন্ত্রিসভাও বানিয়েছেন।

জেনজি বিক্ষোভকারীদের সেপ্টেম্বরের আন্দোলনে নেপালে ৭৬ জনের প্রাণ গেছে, এক হাজার ৩০০-র বেশি আহতও হয়েছিল।

রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে আদালতের অবস্থান কার্কিকে ‘বড় ধাক্কা দিয়েছে’ বলেই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক পুরঞ্জন আচার্য।

“জেনজিদের চাপে পড়ে তিনি রাষ্ট্রদূতদের প্রত্যাহার করেছিলেন এটা জেনেই যে আদালতে এই সিদ্ধান্তকে টেকানো সরকারের জন্য খুবই কঠিন হবে।

“তবে দীর্ঘমেয়াদে এটা তাকে আরও চাপ সামলাতে সহায়তা করবে,” বলেছেন পুরঞ্জন।

ওলির হাতে নিয়োগ পাওয়া দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ আরও অনেক সরকারি কর্মকর্তাদের সরাতেও কার্কির ওপর জেনজি বিক্ষোভকারীদের চাপ রয়েছে।

এ বিক্ষোভকারীরা কংগ্রেস, কমিউনিস্ট পার্টিসহ দীর্ঘদিন ধরে দেশটির রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আসা দলগুলোর প্রতি চরম অনাস্থা জানিয়েছি। তবে তাদের প্রায় সবাই সেপ্টেম্বরের আন্দোলন পরবর্তী প্রাথমিক বিপর্যয় ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠছে বলেই মনে হচ্ছে, মত বিশ্লেষকদের।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top